Electrical Transformer
প্রশ্ন-১. ট্রান্সফরমার কি এবং কিভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎকে (Alternating current) এক ভোল্টেজ থেকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফরমার স্টেপ আপ অথবা স্টেপ ডাউন দুই ধরনের হয়ে থাকে এবং এটি ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন (Magnetic induction) নীতি অনুসারে কাজ করে। ট্রান্সফরমারে কোন চলমান/ঘূর্ণায়মান অংশ থাকে না, এটি সম্পূর্ণ স্থির ডিভাইস। ট্রান্সফরমারে দুটি উইন্ডিং থাকে, প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং । প্রাইমারি ওয়াইন্ডিয়ে ভোল্টেজ প্রদান করলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয় এবং ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স আয়রন কোরের মধ্য দিয়ে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিয়ে যায় এবং সেখানে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। যার ফলশ্রুতিতে সেকেন্ডারি কয়েলে ভোল্টেজ পাওয়া যায়। ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ পরিবর্তনের হার প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যার হারের উপর নির্ভর করে। তবে মনে রাখবেন, ট্রান্সফরমার শুধু ভোল্টেজের পরিবর্তন ঘটায় কিন্তু পাওয়ার ও ফ্রিকুয়েন্সি অপরিবর্তিত থাকে। পাওয়ার ঠিক থাকে তাই ভোল্টেজ পরিবর্তনের জন্য কারেন্টেরও পরিবর্তন হয়।
প্রশ্ন-২. ট্যাপ (Tap) কি এবং কখন ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজ অবস্থার সংশোধন করতে এবং সেকেন্ডারি টার্মিনালে নির্ধারিত ভোল্টেজ আউটপুট দিতে, উচ্চ ভোল্টেজের কিছু ট্রান্সফরমারে ট্যাপ(Tap) প্রদান করা হয়। উচ্চ অথবা নিম্ন ভোল্টেজ, উভয় অবস্থায় সাধারণত দুই এবং একের অর্ধেক এবং নির্ধারিত প্রাইমারি ভোল্টেজ থেকে পাঁচ শতাংশ উপরে অথবা নিচে বিবেচনা করে ট্যাপ সেট করা হয়। উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে নির্ধারিত ভোল্টেজ ৪৮০ভোল্ট হয় এবং এটি লাইন ভোল্টেজ ৫০৪ ভোল্টে চলে তাহলে প্রাইমারিতে ট্যাপ স্বাভাবিকের থেকে ৫% উপরে দিতে হবে যাতে করে সেকেন্ডারিতে সঠিক ভোল্টেজ রেটিং বজায় রাখা যায়।
OLTC=
On Load Tap Changer
প্রশ্ন-৩. ট্রান্সফরমেশন রেশিও কাকে বলে?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের উভয় দিকের ইন্ডিউসড ভোল্টেজ এবং কারেন্ট ও কয়েলের প্যাচের সংখার সাথে একটি নিদ্রিস্ট অনুপাত মেনে চলে, ইহাই ট্রান্সফরমেশন রেশিও বা টার্ন রেশিও। ইহাকে সাধারণত a দ্বারা প্রকাশ করা হয়, অর্থাৎ a = Ep/Es = Np/Ns = Is/Ip
প্রশ্ন-৪. একটি ট্রান্সফরমারের নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ ব্যতীত অন্য কোন ভোল্টেজে কি ট্রান্সফরমার চালানো যেতে পারে?
উত্তরঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে চালান যেতে পারে। যদি ট্যাপ প্রদান করা না হয়ে থাকে তাহলে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা বেশি ভোল্টেজে চালান উচিত নয়। যদি নির্ধারিত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে ট্রান্সফরমার চালান হয়, তাহলে এর KVA রেটিংও ক্রমান্বয়ে কমে যাবে।
উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ভোল্টেজ ৪৮০ ভোল্ট ও সেকেন্ডারি ভোল্টেজ ২৪০ ভোল্ট হয়ে থাকে এবং এটি যদি ২৪০ ভোল্টে অপারেট করা হয় তাহলে সেকেন্ডারি ভোল্টেজ হ্রাস পেয়ে হবে ১২০ ভোল্ট। যদি ট্রান্সফরমারটির রেটিং ১০KVA হয়ে থাকে তাহলে সেটি হয়ে যাবে ৫ KVA অথবা প্রদত্ত ভোল্টেজের সমানুপাতিক হবে।
প্রশ্ন- ৫. ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা বেশি হয়ে থাকে কেন?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমার একটি স্ট্যাটিক ডিভাইস অর্থাৎ স্থির যন্ত্র। এতে কোন ঘূর্ণায়মান অংশ নেই, ফলে ঘর্ষণজনিত কোন ক্ষয় বা লস এতে নেই। অন্যান্য ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের তুলনায় ট্রান্সফরমারে লস অনেক কম। তাই ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা সবচাইতে বেশি। ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা ৯৫%-৯৮% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
প্রশ্ন- ৬. ট্রান্সফরমারের রেটিং kW এ না লিখে kVA লেখা হয়ে থাকে কেন?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের মোট লস= কোর লস + কপার লস। কোর লস নির্ভর করে ভোল্টেজ এর উপর এবং কপার লস নির্ভর করে কারেন্টের উপর, কিন্তু ট্রান্সফরমারের মোট লস কারেন্ট ও ভোল্টেজের মধ্যবর্তী ফেজ কোণের উপর নির্ভর করেনা। kW এর সাথে পাওয়ার ফ্যাক্টর বা কারেন্ট ও ভোল্টেজের মধ্যবর্তী ফেজ এঙ্গেল জড়িত কিন্ত kVA এর সাথে পাওয়ার ফ্যাক্টর থাকেনা। এজন্য ট্রান্সফরমারের রেটিং kW এ না লিখে kVA লেখা হয়ে থাকে।
প্রশ্ন- ৭. ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং কাকে বলে? ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং করার শর্ত কি কি?
উত্তরঃ অনেক সময় ৩ ফেজ ট্রান্সফরমার ব্যবহার না করে তিনটি ১ ফেজ ট্রান্সফরমার এর সাহায্যে ৩ ফেজ সাপ্লাই দেয়া হয়, এই ব্যবস্থাকে ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং বলে।
ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং করার শর্তঃ
১) প্রতিটি ট্রান্সফরমার এর kVA রেটিং একই হতে হবে।
২) প্রতিটি ট্রান্সফরমার এর ভোল্টেজ রেটিং একই হতে হবে।
৩) সঠিক পোলারিটি অনুযায়ী সংযোগ দিতে হবে।
প্রশ্ন- ৮. অটো ট্রান্সফরমার সম্পর্কে লেখ। এর ব্যবহার লিখ।
উত্তরঃ অটো ট্রান্সফরমার এমন এক ব্যাতিক্রমি ট্রান্সফরমার যার মধ্যে কেবল একটি ওয়াইন্ডিং থাকে। ইহার কিছু অংশ প্রাইমারি আর কিছু অংশ সেকেন্ডারি, উভয় কয়েল ইলেকট্রিক্যাল ও ম্যাগনেটিক্যালি সংযুক্ত থাকে। তারপরও একে ট্রান্সফরমার বলা হয়, কারণ ইহার কার্যপ্রণালী দুই ওয়াইন্ডিং ট্রান্সফরমার এর মতই।
এর ব্যবহারঃ
১) ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে ভোল্টেজ ঘাটতি পুরনে ইহা ব্যবহার করা হয়।
২) ৩-ফেজ ইন্ডাকশন মোটর চালু করার কাজে ব্যবহার হয়।
৩) রাজপথ আলোকিত করার কাজে ইহা ব্যবহার হয়।
৪) রেডিও ইলেক্ত্রনিক্সে ইহা ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন- ৯. ট্রান্সফরমার ওপেন সার্কিট ও শর্ট সার্কিট টেস্ট সম্পর্কে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ ওপেন সার্কিট টেস্টঃ এই টেস্ট করার সময় হাই ভোল্টেজ সাইড ওপেন রেখে লো ভোল্টেজ সাইডে ইকুইপমেন্ট সংযুক্ত করতে হয়। এই টেস্ট করার সময় Rated Voltage supply দিতে হয়। নো লোড কারেন্ট ( অ্যামমিটারের সাহায্যে) এবং কোর লস (ওয়াট মিটারের সাহায্যে) নির্ণয় করার জন্য ওপেন সার্কিট টেস্ট করা হয়।
শর্ট সার্কিট টেস্টঃ
এই টেস্ট করার সময় লো ভোল্টেজ সাইড শর্ট করতে হয়। হাই ভোল্টেজ সাইডে ইকুইপমেন্ট সংযুক্ত করতে হয়। এই টেস্ট করার সময় Rated Current supply দিতে হয়। কপার লস (ওয়াট মিটারের সাহায্যে), সমতুল্য রেজিস্টান্স, রিয়াকক্টান্স ও ইম্পিড্যান্স নির্ণয়, ইফিসিয়েন্সি এবং ভোল্টেজ রেগুলেশন নির্ণয় করার জন্য শর্ট সার্কিট টেস্ট করা হয়।
প্রশ্ন- ১০. CT ও PT কি? কোথায় ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ CT (Current Transformer) এটি সাধারণত কম রেঞ্জের মিটার দিয়ে সার্কিটের বেশি পরিমান কারেন্ট পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। PT (Potential Transformer) এটি সাধারণত কম রেঞ্জের মিটার দিয়ে সার্কিটের বেশি পরিমান ভোল্টেজ পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এগুলোকে ইন্সট্রুমেন্ট ট্রান্সফরমারও বলে।
প্রশ্ন-১. ট্রান্সফরমেশন রেশিও কাকে বলে?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের উভয় দিকের ইন্ডিউসড ভোল্টেজ এবং কারেন্ট ও কয়েলের প্যাচের সংখারসাথে একটি নিদ্রিস্ট অনুপাত মেনে চলে, ইহাই ট্রান্সফরমেশন রেশিও বা টার্ন রেশিও। ইহাকেসাধারণত a দ্বারা প্রকাশ করা হয়,
অর্থাৎ a = Ep/Es = Np/Ns = Is/Ip
প্রশ্ন-২. ট্রান্সফরমারের ট্রান্সফরমেশন রেশিও দ্বারা কি বুঝা যায়?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের প্রাইমারীর তুলনায় সেকেন্ডারিতে ভোল্টেজ কতটুকু কমবে বা বাড়বে তাবুঝা যায়।
প্রশ্ন-৩. ট্রান্সফরমারের এডি কারেন্ট লস কাকে বলে? এডি কারেন্ট লস কিসের উপরনির্ভরশীল? এডি কারেন্ট লস এর প্রভাবে কি হয়? এডি কারেন্ট লস কমাবার উপায় কি?
এডি কারেন্ট কোরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় কোর রেজিস্ট্যান্স কত্রিক বাধাগ্রস্ত হয়ে যেঅপচয় হয়, তাকেই এডি কারেন্ট লস বলে।
এডি কারেন্ট লস কোর রেজিস্ট্যান্স এর নির্ভরশীল।
এডি কারেন্ট লসের কারনে শক্তির অপচয় হয় এবং কোর উত্তপ্ত হয়।
উচ্চ রেজিস্টিভিটির চৌম্বক পদার্থের কোর ব্যবহার করে এডি কারেন্ট লস কমানো যায়।
প্রশ্ন-৪. ট্রান্সফরমারের কোর লস ও কপার লস কি?
উত্তরঃ প্রাইমারিতে আরোপিত ভোল্টেজের উপর কোর লস নির্ভরশীল এডি কারেন্ট লস ওহিসটেরেসিস লস এর সমষ্টিকে কোর লস বলে।
ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং এর ওহমিক রেজিস্ট্যান্স এর কারনে যে লস হয়তাকে কপার লস বলে ট্রান্সফরমারের কপার লস লোডের উপর নির্ভরশীল ট্রান্সফরমারের কপারলস কারেন্টের বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ Pc= I2
প্রশ্ন-৫. ট্রান্সফরমারের হিসটেরেসিস লস কি? এর প্রভাব কি? কমানোর উপায় কি?
উত্তরঃ অল্টারনেটিং কারেন্ট পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হওয়ার কারণে চুম্বক ক্ষেত্রের মেরুর দিকপরিবর্তন হয়ে থাকে। এ পর্যায়ক্রমিক চুম্বকীকরন ও বিচুম্বকীকরেনের ফলে কোরে অনুচুম্বকগুলো স্বস্ব স্থানে সংঘর্ষের কারনে পাওয়ার লস
হয়, এই লসকেই হিসটেরেসিস লস বলে হিসটেরেসিস লস যত বেশি হবে তাপ উৎপন্ন তত বেশি হবে যার ফলে পাওয়র লস বৃদ্ধি পাবেএবং ইন্সুলেশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে হিসটেরেসিস লস কমানোর জন্য উচ্চ গুণসম্পন্ন ম্যাগনেটিক শিটের কোর ব্যবহার করতে হবে।যেমনঃ সিলিকন স্টিল।
প্রশ্ন-৬. ট্রান্সফরমারের নো-লোড অপারেশন ও নো-লোড কারেন্ট কাকে বলে?
উত্তরঃ লোডবিহীন অবস্থায় ট্রান্সফরমারের যে কার্যক্রম চালানো হয় তাকে ট্রান্সফরমারের নো-লোড অপারেশন বলে ট্রান্সফরমারের নো লোড অবস্থায় প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং এ যে সামান্য পরিমান কারেন্ট প্রবাহিত হয়,তাকে ট্রান্সফরমারের নো-লোড কারেন্ট কাকে বলে?
প্রশ্ন-৭. লোডবিহীন অবস্থায় ট্রান্সফরমার পাওয়ার গ্রহন করে? কেন?
উত্তরঃ লোডবিহীন অবস্থায় ট্রান্সফরমার পাওয়ার গ্রহন করে কোর লস মিটানোর জন্যলোডবিহীন অবস্থাতেও ট্রান্সফরমার পাওয়ার গ্রহন করে।
প্রশ্ন-৮. ট্রান্সফরমারের নো-লোড কারেন্ট-এর কাজ কি? এর কম্পোনেন্টগুলো কি কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের নো লোড কারেন্ট সাপ্লাই ভোল্টেজের ৯০০ পিছনে থেকে কোরে মিউচুয়ালফ্লাক্সকে প্রতিষ্ঠিত করে ট্রান্সফরমারের নো লোড কারেন্ট এর কম্পোনেন্ট দুটি, যথাঃ ১) ম্যাগনেটাইজিং কারেন্ট ২)ওয়ার্কিং কারেন্ট।
প্রশ্ন-৯. ট্রান্সফরমারের সমতুল্য সার্কিট কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের যাবতীয় পরীক্ষা নিরিক্ষা ও বিভিন্ন গাণিতিক হিসাব সহজভাবে করার জন্যযে সার্কিট করা হয় তাকে ট্রান্সফরমারের সমতুল্য সার্কিট বলে।
প্রশ্ন-১০. ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে ডেল্টা ও সেকেন্ডারিতে স্টার সংযোগথাকে কেন?
উত্তরঃ প্রাইমারি হাই সাইড থেকে সেকেন্ডারি লো সাইডে গ্রাহকদের সরবরাহ দেয়া হয়। এক্ষেত্রেডেল্টা স্টার সংযোগ উপযোগী কারন, তিন ফেজ চার তার ব্যবস্থা একমাত্র স্টার সংযোগে পাওয়াযায়। তাহলে গ্রাহকদের প্রয়োজনে তিন ফেজ ও সিঙ্গেল ফেজ উভয় সরবরাহ দেয়া যাবে।
প্রশ্ন-১১. ট্রান্সফরমারের দক্ষতা কাকে বলে? সরবোচ্চ দক্ষতার শর্ত কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের আউটপুট ও ইনপুট পাওয়ারের অনুপাতকেই দক্ষতা বলে কোন ঘূর্ণন অংশনা থাকায় অন্যান্য সকল ইলেকট্রিক্যাল মেশিনের চেয়ে ট্রান্সফরমারের দক্ষতা অনেক বেশি প্রায়৯৫% থেকে ৯৯% পর্যন্ত।
কোর লস = কপার লস হলে সরবচ্চ দক্ষতা হয়।
প্রশ্ন-১২. ট্রান্সফরমারে অয়েল (তৈল) এর কাজ কি? অয়েল এর ফ্লাশ পয়েন্ট ও ফায়ারপয়েন্ট বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারকে ঠাণ্ডা রাখা ও ইন্সুলেশন হিসাবে কাজ করে ট্রান্সফরমার অয়েল।
যে তাপমাত্রায় তৈলের বাস্পে আগুন ধরে যায় তাকে ফ্লাশ পয়েন্ট (এই তাপমাত্রা ১৬০০ C এরনিচে হওয়া ঠিক নয়) আর যে তাপমাত্রায় ট্রান্সফরমারের তৈলে আগুন ধরে যায় তাকে ফায়ারপয়েন্ট (এই তাপমাত্রা ২০০০ C এর নিচে হওয়া ঠিক নয়) বলে।
প্রশ্ন-১৩. ট্রান্সফরমারের স্লাজিং কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের তৈল বাতাসের সংস্পর্শে এসে এলে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তেলেরঅনু ভেঙ্গে গাঁদ বা তলানি সৃষ্টি হয়, একে ট্রান্সফরমারের স্লাজিং বলে।
প্রশ্ন-১৪. অটো ট্রান্সফরমারকে ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার হিসাবে ব্যবহার হয় না কেন?
উত্তরঃ অটো ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং এর মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল সংযোগথাকে, যা গ্রাহক বা লোড সাইডে বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে তাই অটো ট্রান্সফরমারকেডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার হিসাবে ব্যবহার হয় না।
প্রশ্ন-১৫. ট্রান্সফরমারের ব্রীদার কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের ট্যাংকে জলীয়বাস্পমুক্ত অর্থাৎ শুষ্ক বাতাস প্রবেশের জন্য ট্রান্সফরমারে যেপ্রকোষ্ঠ ব্যবহার করা হয় তাকে ব্রীদার বলে।
প্রশ্ন-১৬. বুখলজ রিলে কোথায় লাগানো হয় এবং কি ত্রুটিতে সংকেত দেয়?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের ট্যাংক ও কনজারভেটর এর মাঝে সংযোগ কারি পাইপে লাগানো হয়।ট্রান্সফরমারের ট্যাংকে ওয়াইন্ডিং ত্রুটি ও তৈলের গুনাগুন নষ্ট হলে ইহা সংকেত দেয়।
প্রশ্ন-৩১৭. ওপেন ডেল্টা বা V-V কানেকশন কি?
উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে দুটি সিঙ্গেল ফেজ ট্রান্সফরমার দ্বারা ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তিনফেজ সরবরাহদেয়া হয় তাকে ওপেন ডেল্টা বা V-V কানেকশন বলে।
প্রশ্ন-১৮. ট্রান্সফরমারের সারকুলেটিং কারেন্ট কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমার প্যারালেল অপারেশনের সময় যদি উভয় ট্রান্সফরমারের ট্রান্সফরমেশনরেশিও এক না হয় তাহলে ট্রান্সফরমারের ইনডিউসড সেকেন্ডারি ই এম এফ অসমতা বিরাজ করেএবং সঠিকভাবে ফেজ অপোজিশন হয় না ফলে লোড বা নো লোড অবস্থায় উভয় ট্রান্সফরমারওয়াইন্ডিং এ কিছু কারেন্ট আবর্তকারে প্রবাহিত হয় যা সারকুলেটিং কারেন্ট নামে পরিচিত।


No comments
New comments are not allowed.